Header Ads Widget

ইরানের শক্তি ও দূর্বলতা -পাঠ ৪

 

https://www.profitableratecpm.com/ep3xukn1uu?key=261c79512447dffcef133d15ff0e94a0

এর জন্য ইরানকে মোসাদের মত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। জিজ দেশে মোসাদের নেটওয়ার্ক ভাঙতে হবে। তবে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ যেই বিষয়টি সেটি হল মহাকাশে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা। ইরান শুধু গত বছরেই ৬ টি স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে। কিন্তু সেই সক্ষমতায় দারুন ভাবে ছেদ টেনেছে এবারের হামলা। ইরানকে এক্ষেত্রে চীনের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে। নিজেদের বাইডও এর মত সিস্টেম দাড় করাতে পারে অথবা চীনের বাইডও ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু ইমেজিং এবং রিয়েল টাইম ইন্টেলিজেন্স এর জন্য ইরানকে হাই রিজল্যুশন স্যাটেলাইট পাঠাতে হবে। ইজ-রায়েল বা ইউক্রেনের সফলতার বড় কারন হল আমেরিকার মাক্সার কোম্পানি। যারা রিয়েল টাইম হাই রিজল্যুশন ইমেজ সরবরাহ করে নিখুঁত টার্গেটিং এর সাহায্য করছে। ইরানের এক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে শক্তিশালী হবার কোন বিকল্প নেই। 

https://www.profitableratecpm.com/ep3xukn1uu?key=261c79512447dffcef133d15ff0e94a0

ব্যাপারটা আরেকটু ভেঙ্গে বলি। আমার মনে হয়েছে ইরান ইজ-রায়েলে হামলার ক্ষেত্রে টার্গেটিং ইস্যু নিয়ে ভুগেছে। বড় ব্যার্থতা হল, ইজ-রায়েলের বিমান বাহিনীর বহরকে ট্রেস করতে পারেনি। যেভাবে ইজ-রায়েল ইরানের বিমানগুলিকে টার্গেট করতে পেরেছে সেটা ইরান পারেনি। এমনকি বিমান ফ্লাই করছে কিনা সেগুলার ও রিয়েল টাইম ইন্টেলিজেন্স ইরানের হাতে ছিলনা। অথচ ইজ-রায়েল রিয়েল টাইম জানতে পেরেছে ইরানের মিসাইল লঞ্চের তথ্য। লঞ্চার মুভমেন্ট ট্রাক করতে পেরেছে। ইরানের এই ধরনের উচ্চ প্রযুক্তির সেন্সিং ও ইন্টেলিজেন্স স্যাটেলাইট সাপোর্ট প্রয়োজন। এসবের সাথে ইরানের সক্ষমতা হিসাব করলে বিস্তারিত না বলে বলা যেতে, সম্মান, সাহস, একতা, একাগ্রতা ও নলেজ। এবার ইরানের মিলিটারি সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করা যাক। 

https://www.profitableratecpm.com/wi105i1x?key=5a326300e6f95d56430898b10aa22b7d

 অনেকেই বলছেন J-10C আনলে ইরান ডগফাইটে এয়ার সুপ্রিমেসি ধরে রাখতে পারবে। আমার কাছে বিষয়টা এত সিম্পল মনে হয়না। ইজ-রায়েল আর ভারত এক নয়। এমনকি সুপার পাওয়ার ফ্রান্স বা ব্রিটেনকে নাকানিচুবানি খাওয়ানোর সক্ষমতা ও ইন্টেলিজেন্স সাপোর্ট ইজ-রায়েলের আছে। শত্রুর এই সক্ষমতাকে মার্ক করতে হবে। আমি নিশ্চিত চীন থেকে J-10C বিমান আনলে সর্বপ্রথম টার্গেট হবে এই বিমানগুলি। যা ইজ-রায়েল ফার্স্ট ব্লোতেই নিউট্রালাইজ করতে সক্ষম। ইরানের এখানে কিছু মিলিটারি স্ট্রাটেজির পরিবর্তন দরকার। ১. ইরানের সর্বপ্রথম যেটা জরুরি সেটি হল উন্নত রাডার সিস্টেম। রাডার সাপোর্ট ছাড়া কার্যত পুরো দেশ অন্ধ থাকবে। এই কারনেই ইজ-রায়েলের প্রথম টার্গেট থাকে রাডার সাইট গুলি। ভবিষ্যতের কনফ্রন্টেশনেও রাডার সাইট গুলিই থাকবে। ইরান নিজেরা রাডার তৈরি করে। সিরাজে কারখানা ধ্বংসের ফলে সেই সক্ষমতা কমেছে। ইরানকে এখন চীনা YLC-8E এর মত লং রেঞ্জ রাডার প্রয়োজন যেটা মিসাইল ওয়ার্নিং এর কাজ করবে একি সাথে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক এর সাথে যুক্ত থাকবে। 

https://www.profitableratecpm.com/wi105i1x?key=5a326300e6f95d56430898b10aa22b7d


এই রাডারের রেঞ্জ ৫০০ কিলোমিটার। প্রশ্ন হল চীন এরকম স্ট্রাটেজিক এসেট দিবে কিনা। এটা ইরানের সাথে চীনের ডিল ব্রেকিং সক্ষমতার উপর নির্ভর করছে। রাডারের ক্ষেত্রে অবশ্যই ইরানকে ২ বা ৩ টি ব্যাকাপ ফেইজ রেডি রাখতে হবে। সার্বক্ষণিক একটিভ রাডার থাকতে হবে সবথেকে দুর্বল রাডারগুলি। যেগুলা ইজ-রায়েলের সম্ভাব্য হামলার প্রথম টার্গেট। ইজ-রায়েল টার্গেট করলে রাডার সিস্টেম ধ্বংস করতে পারবে। সেটা সরাসরি বিমান হামলা করে হোক বা মোসাদের মাধ্যমে হোক। এজন্য এই রাডার গুলি দিয়ে ইরানের দুর্বল রাডার ব্যবস্থা শত্রুকে বোঝাতে হবে। আর স্ট্রাটেজিক রাডার ইউনিট গুলি নিষ্ক্রিয় করে গোপনীয়তা রক্ষা করে রাখতে হবে। যখন রাডার ইউনিট ধ্বংস হবে তখন কেবল এই স্ট্রাটেজিক রাডার ইউনিট গুলিকে সচল করা যেতে পারে। রাডারের ক্ষেত্রেও প্রতিটি রাডার সাইটে একাধিক ডিকয় রাডার সিস্টেম রাখা জরুরি যদি ইজ-রায়েলকে মোকাবেলা করতে হয়। ২. রাডার ইউনিট যদি ফাংশন করে তবে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ও ভালভাবে ফাংশন করবে। এয়ার ডিফেন্স ইউনিট গুলির সার্ভাইভাল চান্স বেড়ে যাবে। 

https://www.profitableratecpm.com/wi105i1x?key=5a326300e6f95d56430898b10aa22b7d

এয়ার ডিফেন্সের ক্ষেত্রে চীনের সাহায্য নিতে হবে। ইরান নিজেরাও এডি সিস্টেম বানায়। তবে অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, এডি সিস্টেমগুলি বিশেষ করে মিসাইল ভিত্তিক সিস্টেমগুলি ইজ-রায়েলের ফার্স্ট এটাকের টার্গেট যেগুলা তারা এয়ার সুপিরিয়রিটির জন্য শুরুতেই টেক আউট করার চেষ্টা করবেই। আর বড় একটা ঝুকি হল মোসাদের মাইক্রো ড্রোন। এক্ষেত্রে আমার মত হল, ইরানের উচিত মিসাইল ভিত্তিক এডি সিস্টেমের থেকে পয়েন্ট ডিফেন্সের জন্য ওরিলিকন স্কাই শিল্ড বা স্কাই গার্ডের মত সিস্টেম প্রচুর পরিমানে রাখা। মিসাইল ভিত্তিক এডি সিস্টেমের উপর অতিরিক্ত নির্ভর করলে ইজ-রায়েল ড্রোন ভিত্তিক এটাক করবে স্যাচুরেটেড করে দেয়ার জন্য। কিন্তু ক্যানন সিস্টেমের পয়েন্ট ডিফেন্সে গেলে খরচ কম হবে আর কার্যকরী প্রতিরোধ সম্ভব। চীনের SWS3 ভাল অপশন হতে পারে। অথবা ল্যান্ড ভিত্তিক CIWS রোলে কার্যকরী বিকল্প বাড়াতে হবে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অটো ক্যানোনের এই এডি সিস্টেম রাখতে হবে। এতে ড্রোন, বিমান ও ক্রুজ মিসাইলের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা যাবে। এটাতো লাস্ট লাইন অব ডিফেন্স। মিডিয়াম ও লং রেঞ্জের ক্ষেত্রে চিনা বিকল্প ইরান কনসিডার করতে পারে আবার নিজেদের বানানো সিস্টেমের উপরেও নির্ভর করতে পারে। সেক্ষেত্রে রাডার সাপোর্ট ও স্যাটেলাইট সাপোর্ট জরুরি। এডি সিস্টেমের ক্ষেত্রেও ডিকয় বা দুর্বল বা পুরাতন প্রযুক্তির গুলিকে ইজ-রায়েলের ফার্স্ট এটাকের টার্গেট হিসাবে বলি দেয়ার জন্য রেডি রাখতে হবে। ৩. এয়ার সুপ্রিমেসি : অনেকে J-10C বিমানের কথা বলছেন। কিন্তু এটি কার্যত ইরানের আকাশ নিরাপত্তায় এবং ডিটারেন্স সৃষ্টিতে অর্ধেক কাজ করতে পারবে। বিষয়টি একটু পরিস্কার করে বলি। ভিগোরাস ড্রাগন বিমানের কম্ব্যাট রেঞ্জ ১২৪০ কিলোমিটার। এই বিমান শুধুমাত্র নিজেদের দেশে ডগ ফাইটে ব্যবহারের জন্য বেশি সংখ্যায় নেয়া যেতে পারে কিন্তু এটা ইজ-রায়েলের এফ-১৬ বা এফ-৩৫ এর বিরুদ্ধে কতটুকু সফলতা পাবে সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ। 

https://www.profitableratecpm.com/wi105i1x?key=5a326300e6f95d56430898b10aa22b7d

এই বিমানের সর্বোচ্চ ক্যাপাসিটির জন্য শক্তিশালী স্যাটেলাইট সাপোর্ট ও গাইডেন্স লাগবে। যদি পাকিস্তানের মত PL-15e ইরান পায় তাও চীনা স্যাটেলাইট সাপোর্ট ছাড়া খুব বেশি ইফেক্টিভ হবেনা। এজন্যই শুরুতে ইরানের নিজস্ব স্যাটেলাইট ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ব্যাপারে বলেছি। এই বিমান নিজেদের আকাশ সীমায় প্রতিরোধ করতে পারবে হয়ত কিন্তু সরাসরি ইজ-রায়েলের জন্য কোন ডিটারেন্স সৃষ্টি করবে বলে মনে হয়না। কারন ইজ-রায়েলের প্রতিটি বিমান সর্বোচ্চ মার্কিন সাপোর্ট ও ডাটা পেয়ে থাকে। শুনলে হাসি পেলেও ইরানের নিজেদের স্বার্থেই বড় রকমের স্যাক্রিফাইস করে ফলেও চীনা J-20 বিমান চাওয়া উচিত। 

অবশ্যই ws-15 ইঞ্জিনের ভার্সনগুলি। এই স্টেলথ বিমানের অপারেশনাল রেঞ্জ ২৫০০ কিলোমিটার বা তার আশেপাশে। সেক্ষেত্রে ইজ-রায়েলের উপর দারুন মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি সম্ভব শুধুমাত্র এই বিমান অজানা সংখ্যায় (সংখ্যা প্রকাশ করা ঠিক হবেনা) রাখতে পারলে। এই বিমান এক ঝাক ড্রোনকে লিড দিয়ে অপারেশনে যেতে পারবে। সরাসরি রিয়েল টাইম স্যাটেলাইট যোগাযোগ রাখতে পারবে। J-20 নিতে পারলে এতা হত ডিটারেন্স। কিন্তু J-10 শুধুমাত্র ডিফেন্সিভ পসচার। এক্ষেত্রে ইরানকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে চীনের সাথে ডিল সফল করার জন্য। 

https://www.profitableratecpm.com/wi105i1x?key=5a326300e6f95d56430898b10aa22b7d

এটা সম্ভব একারনে মনে হয়েছে যে, চীন যেহেতু ৬ষ্ঠ প্রজন্মের বিমানের যুগে প্রবেশ করেছে, এবং চীনের রাইভাল আমেরিকা যেহেতু এফ-৩৫ চীনের শত্রু অধিকাংশ দেশকে দিচ্ছে, ইরান ভাল অফার দিলে হয়ত J-20 ডিল করা সম্ভব। আরেকটা অপশন আছে কিন্তু সেটি সময়সাপেক্ষ। ইরান, চীন, রাশিয়া মিলে এফ-৩৫ এর অল্টারনেট কোন প্রকল্প হাতে নিতে পারে। এতে রাশিয়ার আগ্রহ থাকা উচিত বলে মনে করি। এখন প্রশ্ন হল কেন চীন? শুরুতে যেটা দিয়ে শুরু করেছিলাম, রাশিয়ার অস্ত্র এখন পশ্চিমাদের মুখস্ত। একমাত্র চীনের ক্ষেত্রে ব্যাটেল রেকর্ড না থাকায় পশ্চিমাদের কাছে এখনো দুর্বোধ্য। J-10 সফলতা পাওয়ার পর সকলে নড়ে চড়ে বসেছে। আমার ধারনা চীনা ডিফেন্স সামগ্রি নিলে সেটি সম্পর্কে জানবার বা এনালাইসিস করার সুযোগ কম পাবে তারা।

Post a Comment

0 Comments